সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে দ্রুত ব্যবস্থা, শীর্ষ অপরাধীদের ধরার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, দুই মাস আগে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ চট্টগ্রামের এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। পরে পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা জোরদার করেন এবং বাসায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সন্ত্রাসীরা তখন সুবিধা করতে পারেনি। পরে একই গ্রুপ আবার সক্রিয় হয়ে ভারি অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আরও সতর্ক হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী “জুলাই জাতীয় সনদ”-এর প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একটি সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, যার ভিত্তি ছিল ওই সনদের একটি অঙ্গীকার। তার দাবি, এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে” যারা নেতৃত্ব দিয়েছে ও অংশ নিয়েছে, তাদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার রয়েছে। ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলো সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতদিন থাকবে—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তার মতে, সেনাবাহিনীও দীর্ঘদিন মাঠে থাকতে আগ্রহী নয়, কারণ এতে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য দায়িত্বে প্রভাব পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কতটা হয়েছে, সেটিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

র‍্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে জনমত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন একটি বিশেষায়িত বাহিনী। প্রশ্ন হলো—এ বাহিনী প্রয়োজন কি না। তার মতে, প্রয়োজন আছে; তবে কাঠামো, এখতিয়ার, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপায় খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ধরতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অভিযানের বিস্তারিত কৌশল প্রকাশ করা হয়নি। চট্টগ্রামের ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, গ্রেপ্তার কবে হতে পারে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তরও এখনো আসেনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *