ঢাকায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তনের জন্য দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষাকে আধুনিক, সহজ এবং ফলপ্রসূ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য চলতি মাসের মধ্যেই নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠন ও সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেবল একটি প্রশাসনিক দপ্তর নয়; এটি জাতি গঠনের কেন্দ্র। এখান থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়।
তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানোর ওপর জোর দেন। কোর্স ও কারিকুলামকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ কাজ পর্যালোচনা করে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দিতে হবে। “এটি আমাদের দেশ, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ,”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি নতুন চিন্তা ও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন।
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা খাতের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোর শিক্ষামডেল, গবেষণা প্রবন্ধ এবং পিএইচডি গবেষকদের কাজ পর্যালোচনা করে কার্যকর ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান ধাপে ধাপে জাতীয় শিক্ষানীতিতে যুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে একটি সুসংগঠিত “সমাধান তালিকা” তৈরির প্রস্তাব দেন। মাদ্রাসা বোর্ডের দায়িত্ব, শিক্ষকসংক্রান্ত জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক সমস্যাগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা খাতে সংস্কার প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।