সরকার দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এই উদ্যোগ একটি “বিপ্লব”, যার সূচনা করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার চাপিলা পাড়ায় চৌক্কার খাল পরিদর্শনকালে এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন, খাল খনন বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতোমধ্যে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, মাছ উৎপাদন বাড়বে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল সংস্কারের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, পুকুর ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বাংলাদেশে নগরায়ন ও অনিয়ন্ত্রিত দখলের কারণে বহু প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার হারিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনরুদ্ধার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্বচ্ছ তদারকি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ জরুরি।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী শ্রীপুরের পাশাপাশি লবণদহ ও টঙ্গীর গাঁছা খালও ঘুরে দেখেন।
সরকার বলছে, এ কর্মসূচি মানুষের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন আনবে। এখন নজর থাকবে—ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা টেকসইভাবে বাস্তবায়িত হয়।