বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন–এর কর্মকর্তারা সম্প্রতি সাক্ষাৎ করেছেন ‘অদম্য নারী অ্যাওয়ার্ড’প্রাপ্ত সুমনা ম্রংয়ের সঙ্গে। এই সম্মান তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সামাজিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুমনা জন্মেছিলেন ঠোঁট ও তালু কাটা (ক্লেফট প্যালেট) সমস্যাসহ। তিনি বড় হয়েছেন একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ে। শৈশব ও কৈশোরে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে সামাজিক কটূক্তি, অবহেলা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট। অনেক সময় কথা বলার সীমাবদ্ধতাকেই তাঁর পরিচয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কিন্তু সুমনা পড়াশোনা থামাননি। তিনি নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে সামনে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে যখন তিনি সিবিএম গ্লোবাল–এর DiRL প্রকল্পে যুক্ত হন। এই প্রকল্পটি অর্থায়ন করে অস্ট্রেলিয়ান এনজিও সহযোগিতা কর্মসূচি (এএনসিপি)।
প্রকল্পের আওতায় তিনি নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শক সহায়তা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সমর্থন পান। ধীরে ধীরে তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং কমিউনিটি মোবিলাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন।
অদম্য নারী অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর সুমনা বলেন, “একজন প্রতিবন্ধী নারী হওয়া মানে এই নয় যে আমাকে পিছিয়ে যেতে হবে। সঠিক সহায়তা পেলে আমি শিখেছি সামনে এগোতে।”
সুমনার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেখায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হতে পারে। যথাযথ প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্বীকৃতি ও নীতিগত সহায়তা পেলে প্রান্তিক নারীরাও নেতৃত্বের জায়গায় উঠে আসতে পারেন।
সুমনার গল্প এখন অনেক তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা সামাজিক বাধা নয়—সুযোগ ও সমর্থনই একজন মানুষের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।