ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সোমবার (২রা মার্চ) উৎসবের আবহে মুখর ছিল “২০২৬ চাইনিজ কালচার নাইট” উদযাপনে। “ব্লেসড হর্সেস ওয়েলকাম স্প্রিং” শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং “রমজানের স্বাদে পারস্পরিক বোঝাপড়া” থিমে রন্ধনশৈলীর বিনিময়—দুই দেশের সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে এনেছে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে চীনা দূতাবাস, ঢাকা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। সহ-আয়োজক ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় মিলনমেলা।
অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর ড. লিউ ইয়ুইয়িন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান বলেন, চীনা নববর্ষ, লণ্ঠন উৎসব ও রমজানের মিলন আয়োজনটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী জানান, এমন আয়োজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চীনা সংস্কৃতি কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করে এবং শিক্ষা–সাংস্কৃতিক বিনিময়কে গভীর করে।
ড. লিউ ইয়ুইয়িন ২০২৬ সালের চাইনিজ কালচার নাইটকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি পরিবার, আশা ও বিশ্বাস—এই যৌথ মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব জোরদারে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) এবং কারিগরি শিক্ষায় চীনের সাফল্য বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করছে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পাঁচটি সাংস্কৃতিক জোন—লণ্ঠন ধাঁধা ও কুইজ, স্প্রিং কাপলেট চিত্রাঙ্কন, মাটির ঘোড়া শিল্পকর্ম, হানফু পারিবারিক ফটো জোন এবং ঐতিহ্যবাহী শুভকামনা গেমস। রমজান উপলক্ষে আয়োজিত সম্মিলিত ইফতার-নৈশভোজে চীনা হটপট, ডাম্পলিং ও থাংইউয়ানের পাশাপাশি পরিবেশিত হয় বাঙালি খাবার।
আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে এবং চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান দুই দেশের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।