গাজীপুরে বিটিসিএল ও স্যাটেলাইট ভূকেন্দ্রর অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানোর নির্দেশ

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবকাঠামো জোরদারে নতুন বার্তা দিলেন মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি গাজীপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড-এর উপগ্রহ ভূকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান।

টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অব্যবহৃত জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি সরকারের জন্য আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।

মন্ত্রী দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন। তার ভাষায়, সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত রাখা যাবে না; আগাম পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজকে শুধু সরকারি প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। এটি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফাইড কোর্স চালুর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দিতে হবে। এতে নতুন কোর্স চালু, অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং সম্ভাব্য প্রকল্প প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লক্ষ্য হলো টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজকে একটি “সেন্টার অব এক্সেলেন্স” হিসেবে গড়ে তোলা।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন। কর্মকর্তারা চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

স্টাফ কলেজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী গাজীপুরে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির উপগ্রহ ভূকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই সফরকে সংশ্লিষ্টরা টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট অবকাঠামো আরও কার্যকর ও আয়মুখী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। এখন নজর থাকবে ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা কত দ্রুত এবং কীভাবে বাস্তবায়ন হয় তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *