অমর একুশে বইমেলা–এর ষষ্ঠ দিনে তাজউদ্দীন আহমদকে স্মরণ

চলছে অমর একুশে বইমেলা। আজ ছিলো মেলার ষষ্ঠ দিন। মেলা শুরু হয় দুপুর ২টা থেকে, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আজ তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৬৫টি।

বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় “জন্মশতবর্ষ: তাজউদ্দীন আহমদ” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন সলিমুল্লাহ খান।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে তাজউদ্দীন আহমদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। চল্লিশের দশকে ঢাকায় মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পরে দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বক্তার ভাষায়, ১৯৭১ ছিল এক ক্রান্তিকাল, যেখানে তাঁর নেতৃত্ব জাতির জন্য নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—দুই ক্ষেত্রেই তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল সক্রিয় ও কেন্দ্রীয়। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাও তাঁকে ইতিহাসে স্থায়ী স্থান দিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্বে উঠে আসার পেছনে ছিল তাঁর পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদৃষ্টি।

অনুষ্ঠানের “লেখক বলছি” পর্বে নিজের বই নিয়ে কথা বলেন লেখক আলী আহমদ।

বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ. কে. এম দিদার উদ্দিন ও অনন্যা লাবণী।

জারিন তাসনিম ঐশ্বর্যের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং দীপ্তি রাজবংশীর পরিচালনায় ‘বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ’ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন কার্তিক চন্দ্র শর্মা (তবলা), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কী-বোর্ড), মো. আরিফ (বাঁশি) ও দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড)।

৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে “স্মরণ: সন্জীদা খাতুন” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। বিকেল ৪টায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ফাল্গুনের নরম আলোয় বই, আলোচনা ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা প্রতিদিনই টানছে নানা বয়সী পাঠক ও দর্শককে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *