সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে আটজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে থাকায় কাজের চাপ বাড়ছিল এবং সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ কারণে প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট খাতে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টার দায়িত্বও বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের নতুন দায়িত্ব
পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী—
- সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এখন শুধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেখবেন। আগে তিনি কৃষি ও খাদ্যসহ তিনটি দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন।
- মো. শরীফুল আলম-কে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেবল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে।
- হাবিবুর রশিদ এখন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন। নৌপরিবহন তার দায়িত্বে থাকছে না।
- মো. নুরুল হক কেবল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখবেন।
- মো. রাজিব আহসান পেয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের দায়িত্ব।
- জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এখন শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দেখবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার কাছে আর নেই।
- মিজ ফারজানা শারমীন এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর দায়িত্বে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
- ববি হাজ্জাজ এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তাকে সরানো হয়েছে।
উপদেষ্টাদের দায়িত্ব সম্প্রসারণ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন। আরেক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যপ্রণালীর বিধি অনুযায়ী এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব সীমিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হবে, কাজের অগ্রগতি বাড়বে এবং জবাবদিহিতা আরও স্পষ্ট হবে।
এই পরিবর্তন কতটা বাস্তব ফল দেবে, তা নির্ভর করবে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পর মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। তবে প্রশাসনে গতি আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ—এ কথা পরিষ্কার।