মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

সরকার বলছে, সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দেশের নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে বেশ কিছু সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা এবং নিয়মিত গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার পরীক্ষা করে লিকেজজনিত অপচয় রোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের ক্ষেত্রেও কিছু পরামর্শ দিয়েছে সরকার। ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে কার-পুলিং বা একাধিক ব্যক্তি মিলে একটি যানবাহন ব্যবহার করার ব্যবস্থাও গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমিয়ে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অফিস চলাকালীন এবং অফিস শেষে জ্বালানির অপচয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়–এর জনসংযোগ কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *