আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সড়ক, সেতু, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভায় জানানো হয়, ঈদকে সামনে রেখে জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলোর মেরামত কাজ ঈদের অন্তত ১০ দিন আগেই শেষ করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর অধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে রাজধানীর সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এসব টার্মিনালকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, উপজেলা, জেলা ও মহানগর সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলো ঈদের আগেই বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া সড়কের পাশে অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার সরিয়ে দেওয়া হবে এবং পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যানজট কমাতে টোল প্লাজাগুলোতে সার্বক্ষণিক ইটিসি বুথ চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ঈদের আগে তিন দিন এবং ঈদের পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া সিএনজি স্টেশন ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের দিনসহ আগে সাত দিন এবং পরে পাঁচ দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিল্প-কারখানাগুলোকেও শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ তৈরি না হয়।
ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের পরের তিন দিন পর্যন্ত মোট সাত দিনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হটলাইন নম্বর ১৬১০৭ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬ ও ০১৫৫০০৫৬৫৭৭।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাই আরও বেশি তৎপর থাকবে। প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঈদের সময় ঢাকা ছাড়বেন। এত মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।