পাটশিল্পে জোর দিচ্ছে সরকার, চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল—বাড়বে কর্মসংস্থান

‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

দিবসটি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইজারা পদ্ধতিতে এসব পাটকল চালু করা হচ্ছে, যাতে নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ইজারায় দেওয়া নয়টি পাটকলে প্রায় ৭ হাজার ২ শত মানুষ কাজ করছেন। এতে দেশের উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানি এখন খুব লাভজনক নয়। তাই সরকার প্রক্রিয়াজাত পাটপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাট বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪১৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে পাটখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমিসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ ৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে নয় দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা। এতে দেশের বিভিন্ন উদ্যোক্তা তাদের পাটজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।

সরকারের আশা, পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাত আবারও দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় অবদান রাখতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *