মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা ছাড়ার আহ্বান আহমদিয়া খলিফার

নিখিলবিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান মির্জা মসরুর আহমদ মুসলিম দেশগুলোকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রশক্তির ওপর নির্ভর না করে বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খুতবাটি যুক্তরাজ্যের মোবারক মসজিদ থেকে প্রদান করা হয় এবং আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমটিএ ইন্টারন্যাশনাল–এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২২০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

খুতবায় তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলো যেন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রশক্তির ওপর নির্ভরশীলতা ত্যাগ করে। তাঁর মতে, পৃথিবীর বড় শক্তিগুলোকে যেন মুসলিম দেশগুলো নিজেদের উপাস্য বলে মনে না করে।

তিনি বলেন, “স্থায়ী ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। মুসলিম বিশ্ব যদি ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে তারা বারবার বাইরের শক্তির প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের শিকার হবে।”

আহমদিয়া খলিফা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু মুসলিম দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। তবে এসব ঘাঁটির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই সামরিক উপস্থিতিই অঞ্চলটিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

তিনি বলেন, “এই ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতির কারণে আরব দেশগুলোর ওপর আক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণ ঘটেছেও। এতে অনেক দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আরব দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

মির্জা মসরুর আহমদ বলেন, মুসলিম বিশ্বের সরকার, রাজনীতিবিদ ও শাসকদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা উচিত।

তিনি পবিত্র কুরআনের – সূরা আল-হুজুরাত–এর ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, মুসলমানদের শান্তি ও সমঝোতার পথে অগ্রসর হতে হবে এবং পরস্পরকে ভাই হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ছোটখাটো বিশ্বাসগত পার্থক্য উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথাও তিনি বলেন।

খুতবার এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে তারা দেশটির এক নেতাকে হত্যা করেছে। তবে তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট নেতার সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক সময় আরও বেড়ে যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরব দেশগুলো ও ইরানের সরকারের উচিত আবারও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা। তিনি উল্লেখ করেন যে চীন এবং পাকিস্তান–সহ কয়েকটি দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।

খুতবার এক পর্যায়ে একজন পশ্চিমা সাংবাদিকের মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এমন সময়ও আসতে পারে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবে, কিন্তু মুসলিম বিশ্ব নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

খুতবার শেষে তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করেন এবং আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদেরও শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সব ধরনের অবিচার ও নিষ্ঠুরতার অবসানের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *