দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষার দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৪টায় আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কৃত্রিম সংকট ও শুল্ক আরোপের ভয় দেখিয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। তাদের দাবি, চুক্তির কিছু ধারা কার্যকর হলে দেশের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এনপিএ’র মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বলা হয়, খোদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তা অবৈধ ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে শুল্কের চাপ দেখিয়ে বাংলাদেশের ওপর এই চুক্তি চাপিয়ে দেওয়ার কোনো আইনি বা নৈতিক ভিত্তি নেই বলে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন।
সমাবেশ থেকে চলতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করে অনুমোদন স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—৪ হাজার ৫০০ মার্কিন পণ্যে তাৎক্ষণিক শূন্য শুল্ক দেওয়ার মতো ধারাগুলোর বাস্তবায়ন বন্ধ করা, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত অনুরূপ চুক্তির সাথে বাংলাদেশের চুক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) সুবিধা নিশ্চিত করা।
এছাড়া বীজ সংরক্ষণে কৃষকের অধিকার খর্ব করতে পারে—এমন কোনো ধারা প্রত্যাখ্যান করা এবং মার্কিন-চীন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে জড়ানোর আশঙ্কা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব যাচাই করতে ৩০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিও তোলে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য অনিক রায়, মেঘমাল্লার বসু এবং কৌশিক আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শামীম আরা নীপা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি দেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নির্ধারণ করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো চুক্তি গ্রহণ করা যাবে না বলেও তারা সতর্ক করেন।