ভুটানের সুখের দর্শন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার

মানুষ কি শুধু অর্থে সুখী হয়? নাকি সুখের আরও গভীর কোনো মানে আছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ভুটান অনেক আগেই ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। সেই পথের নাম—গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (জিএনএইচ)।

এই দর্শন নিয়েই আন্তর্জাতিক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে বক্তব্য দিয়েছেন দাশো কার্মা হামু দর্জি। “গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস এন্ড ইটস অপারেশনালাইজেশন ইন ভুটান” শীর্ষক এই আয়োজন করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিরডাপ)। ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ মার্চ ২০২৬।

বক্তৃতায় দাশো কার্মা হামু দর্জি খুব সহজভাবে একটি জটিল বিষয় বোঝালেন। বললেন, উন্নয়ন মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয়। উন্নয়ন মানে মানুষের ভালো থাকা। মানে মন ভালো থাকা।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভুটানের জিএনএইচ কাঠামো চারটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথমটি—টেকসই উন্নয়ন।
দ্বিতীয়টি—পরিবেশ সংরক্ষণ।
তৃতীয়টি—সংস্কৃতির সুরক্ষা।
চতুর্থটি—সুশাসন।

এই চারটি বিষয়কে ঘিরেই দেশটি তার নীতি ও কর্মসূচি সাজায়। ছোট ছোট সিদ্ধান্তেও মানুষের কল্যাণকে সামনে রাখা হয়।

দাশো আরও বলেন, ভুটানে উন্নয়ন মানে ব্যস্ততা নয়, ভারসাম্য। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি খুব গুরুত্ব পায়।

ওয়েবিনারে তিনি ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। এটি ভুটানের একটি নতুন পরিকল্পনা। এখানে শহর গড়া হবে সচেতনতা, পরিবেশ ও মানবিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে। এই উদ্যোগও জিএনএইচ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আলোচনার শেষে ছিল খোলামেলা প্রশ্নোত্তর পর্ব। অংশগ্রহণকারীরা নানা প্রশ্ন করেন। দাশো ধৈর্য নিয়ে উত্তর দেন।

এই ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কেন্দ্র (সিরডাপ)–এর ১৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা এতে যুক্ত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *