বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী একটি বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
এই কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলনকক্ষে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। প্রাথমিকভাবে সিলেট অঞ্চল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা। মোট সাতটি জনপ্রিয় খেলা নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে। প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে খেলা শুরু হবে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়াকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর মাধ্যমে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মাদক ও অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কর্মসূচি একটি সুস্থ, কর্মঠ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রজন্ম গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। চলতি বছরের আসর জুলাই মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকেই প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। দল-মত নির্বিশেষে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এই কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।