বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে ১৮০ দিনের একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের প্রধান বিনিয়োগ সংস্থা—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ)—এই পরিকল্পনা যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন বিডা, বেজা, মিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনায় দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সহায়তা অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে দেশে ব্যবসা করছে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
১৮০ দিনের এই রোডম্যাপ তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। মোট ২৫টি উদ্যোগের মধ্যে:
- অবকাঠামো উন্নয়ন (১৩টি উদ্যোগ): বন্দর আধুনিকায়ন, চাইনিজ ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে প্রস্তুত প্লট বাড়ানো, ফ্রি ট্রেড জোন ও ডিফেন্স ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিপিপি মডেলে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জ্বালানি খাতে উন্নয়ন।
- বিনিয়োগ সহায়তা (৭টি উদ্যোগ): পাঁচটি বিনিয়োগ সংস্থাকে একীভূত করার পরিকল্পনা, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি, বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, ‘বাংলাবিজ’ নামে একক সেবা প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করা এবং বড় বিনিয়োগকারীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান।
- বিনিয়োগ উন্নয়ন (৫টি উদ্যোগ): শিল্প খাতের ম্যাপিং, অগ্রাধিকারভিত্তিক দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্লু ইকনমি উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ও মেরিকালচার, এবং নতুন এফডিআই প্রণোদনা চালু।
এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। বিভিন্ন সংস্থার কাজ একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে বিডার প্রথম কার্যালয় চালুর উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও গতিশীল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা নীতিনির্ধারকদের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, এই ১৮০ দিনের রোডম্যাপ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।