ঈদের বিকেলটা ছিল শান্ত। বাতাসে হালকা উচ্ছ্বাস। আর সেই উচ্ছ্বাস জমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে।
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় এখানে নজরুল প্রমীলা পরিষদ আয়োজন করে—গানে গানে ঈদ উদযাপন। শুরুতেই ধ্বনিত হয় সেই চিরচেনা গান, “ও মন রমজানের রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ”। মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়। মনে হয়, ঈদ যেন শুধু ঘরে নয়, মানুষের ভেতরেও।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাট্যব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. মআআ মুক্তাদীর।
বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত, নজরুল একাডেমির সভাপতি মসয়ূদ মান্নান। আরও ছিলেন অ্যাডভোকেট কে এম আশরাফ, কবি মুর্শিদ-উল-আলম, চলচ্চিত্র নির্মাতা হাসান আক্তার, জননেতা কামাল ভূঁইয়া ও সংগঠক মো. আতাউল্লাহ।
অনুষ্ঠানে কবিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কবি জাফর পাঠান, সালমা জাহান গোধূলি, সালেহ মাহমুদ, আব্দুস সালাম চৌধুরী, শেফালি দৌসি, সোলাইমান সহজ—একজনের পর একজন মঞ্চে উঠেছেন। কবিতা পড়েছেন। কেউ কেউ স্মৃতির কথা বলেছেন।
শিল্পীদের কণ্ঠে ছিল গান। শহীদুল্লাহ মাসুদ, রোকসানা আক্তার, রিপন আহম্মেদ—তাদের কণ্ঠে নজরুলের গান ভেসে এসেছে সন্ধ্যার দিকে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফটোসাংবাদিক আজিম আহমেদ, সাংবাদিক মো. সাহিদুল ইসলাম, সংগঠক মাহমুদ খান বিজু, কবি সায়মা খাতুন রিভা, ইয়াছমিন আরা শশী, রিয়াদ মাহমুদ খানসহ অনেকে।
পুরো আয়োজন ছিল সাদামাটা। তবু ভেতরে গভীরতা ছিল। আলোচনা হয়েছে। কবিতা পড়া হয়েছে। গান হয়েছে। শেষে দোয়া ও আপ্যায়ন।
নজরুলের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে মনে হয়—এই কবি শুধু বিদ্রোহের নন। তিনি আনন্দেরও। তাই ঈদের দিন মানুষ আবার তাঁর কাছেই ফিরে আসে। প্রতি বছর। একই সময়ে। একই আবেগ নিয়ে।