‘নো কিংস’ বিক্ষোভ: সাত মহাদেশের প্রতিবাদে যোগ দিল অ্যান্টার্কটিকাও

গত সপ্তাহান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিবিরোধী “নো কিংস” (No Kings) বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল রেকর্ডসংখ্যক। কিন্তু আন্দোলনের আয়োজকরা দাবি করছেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না—প্রতিবাদের ঢেউ সাতটি মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছিল। এই দাবির সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রমাণ এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে: অ্যান্টার্কটিকার বরফাচ্ছাদিত ভূমিতে একটি ছোট বিক্ষোভের ছবি ।

ছবিটিতে দেখা যায়, ডিসেপশন দ্বীপের তুষার ঢাকা মাটিতে চারজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের সামনে বরফের ওপর লেখা “NO KINGS”। পিপলস ইউনিটি প্রজেক্ট এই ছবি পোস্ট করে জানায়, এটি “নো কিংস ডে”-র অংশ হিসেবে তোলা হয়েছে ।

ফেসবুকে এই পোস্ট ২৩,০০০-এরও বেশি লাইক পেয়েছে। এক্স (টুইটার), থ্রেডসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছবিটি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। অনেকেই এটিকে আন্দোলনের বৈশ্বিক প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন ।

আয়োজকদের দাবি, শনিবারের এই সমন্বিত বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রে ৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন—যা একদিনের বিক্ষোভের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক । শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, প্যারিস, রোম, লন্ডন ও বার্লিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।

ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ নিউজউইককে বলেছিলেন, এই বিক্ষোভের সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য ছিল শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নয়, বরং তারা কোথায় উপস্থিত হয়েছিলেন ।

অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী বেসামরিক জনগোষ্ঠী নেই। আন্তর্জাতিক চুক্তি ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে সেখানে রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রায় অভূতপূর্ব। তাই এই ছবিকে অনেকেই আক্ষরিক অর্থে একটি বড় বিক্ষোভ নয়, বরং বৈশ্বিক একাত্মতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন ।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়াও আলাস্কার উতকিয়াগভিক (ব্যারো) থেকেও বিক্ষোভের ছবি এসেছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উত্তরের শহর ।

হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভকে উপেক্ষা করেছে। মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন একে “ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। রিপাবলিকান গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত এবং সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক নয় বলে সমালোচনা করেছে ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা এই গতি ধরে রাখতে চান। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধন ও জনসংযোগের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে ।

অ্যান্টার্কটিকার সেই ছবি এখনো সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমর্থকরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের এজেন্ডার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক বিরোধিতার চিত্র—আক্ষরিক বা প্রতীকী যেভাবেই হোক না কেন ।

 

তথ্যসূত্র: নিউজউইক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *