বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী মিতসুই

জাপানের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কো. লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মি. তাতসুও ইয়াসুনাগা বাংলাদেশ সফর করেছেন। এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-র আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় আসেন। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিতসুই একসময় মূলত বৈশ্বিক ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তারা বড় কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে অটোমোটিভ, খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি প্রায় সাত দশকের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিনিয়োগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে এসিআই মটরস লি. এবং স্বপ্ন-র মতো উদ্যোগে তাদের সম্পৃক্ততা দেশের খুচরা ও অটোমোটিভ খাতে নতুন গতি এনেছে।

বৈঠকে ইয়াসুনাগা বলেন, বাংলাদেশের বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মিতসুইয়ের বিনিয়োগ কৌশল মিল রয়েছে। দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তার, উন্নত সেবার চাহিদা বৃদ্ধি, আধুনিক খুচরা ব্যবস্থার প্রসার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ—এসব বিষয়কে তিনি সম্ভাবনার বড় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ইয়ামাহা মটরসাইকেল বাংলাদেশ-এর কার্যক্রম মিতসুইয়ের বৈশ্বিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, বন্ধ ও রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে।

এছাড়া, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সুবিধা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিতসুইয়ের মতো বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা শুধু অর্থ নয়, সঙ্গে নিয়ে আসে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের অভিজ্ঞতা। এর ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও মান আরও উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *