বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক সংবর্ধনা ও নৈশ্যভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের সেরেনা হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ ইকবাল হোসেন খান এবং তাঁর সহধর্মিনী নাহিদ রওশন অতিথিদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী রানা তানভীর হুসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সিনেটর ও জাতীয় পরিষদের সদস্য, প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া বেসামরিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সাত শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন খান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক প্রত্যাশা ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হলে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। তিনি সরাসরি বিমান ও জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিক্ষা, পর্যটন, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান সব ধরনের সংঘাত দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
প্রধান অতিথি রানা তানভীর হুসেন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা গেলে দুই দেশের মানুষের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানটি ছিল কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি প্রতীকী মঞ্চ, যেখানে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।