দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নেওয়া এ উদ্যোগকে ব্যক্তি পর্যায়ের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাদানি এভিনিউ সংযোগ সড়কে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এটি সরকারের ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ পরিকল্পনার অংশ। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ এখন শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের জন্য জরুরি দায়িত্ব। একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে এর বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়। গাছ বাঁচিয়ে রাখাই মূল লক্ষ্য। ১০০টি গাছ লাগালে অন্তত ৮০ থেকে ৮৫টি গাছ টিকিয়ে রাখতে হবে। এজন্য সঠিক গাছ নির্বাচন, মানসম্মত চারা ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং নতুন সড়ক প্রকল্পের পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে। যেখানে যে গাছ ভালো জন্মায়, সেখানে সেই গাছই লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচিকে সফল করতে জনগণের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সাধারণ মানুষকেও এতে যুক্ত করার আহ্বান জানান। এতে একটি বড় সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সবুজ দেশ গড়ার উদ্যোগ। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়, এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, সাধারণত বর্ষায় গাছ লাগানো শুরু হলেও এ বছর সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ১ এপ্রিল থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় বনভূমির ঘাটতি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় সরকার চলতি বছর ৫ কোটি এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।