স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-এর প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প যেন অযৌক্তিকভাবে আটকে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার ওপর তিনি জোর দেন।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু কাজ শুরু করাই যথেষ্ট নয়, তা কার্যকর ও টেকসইভাবে শেষ করাও জরুরি। এজন্য পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান।
সভায় সংস্থাভিত্তিক অর্থবরাদ্দ, শেষ পর্যায়ে থাকা প্রকল্পগুলোর তালিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সমন্বয়ের অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়।
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য প্রকল্প নেওয়ার প্রবণতা থেকে বের হতে হবে।
তিনি নির্দেশ দেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) এক্সিট প্ল্যান, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও তার সুফল ধরে রাখা সম্ভব হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের নদ-নদী রক্ষায় বড় ও সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের নকশা করার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই বিবেচনায় নিতে হবে। চলমান প্রকল্পে প্রয়োজনে পরিবর্তন আনারও পরামর্শ দেন তিনি। তবে অপ্রয়োজনে প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন না করার নির্দেশ দেন, যাতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন। আলোচনার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও দ্রুত, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো প্রকল্প শেষ করা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং জনগণ সরাসরি এর সুফল পাবে।