শের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বুধবার (১লা এপ্রিল) ঢাকায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এ তথ্য জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
বৈঠকে জাতিসংঘ প্রকল্প পরিষেবা কার্যালয় (UNOPS)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এর লক্ষ্য হলো পরিবারের নারী প্রধানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তার মাধ্যম নয়, এটি নারী প্রধানদের জন্য একটি সম্মানজনক পরিচয়ও তৈরি করবে। পাশাপাশি দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ‘কেয়ারগিভার’ উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বৈঠকে UNOPS প্রতিনিধি দল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে। তারা জানায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী তারা। পাশাপাশি সুশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।