ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আবারও আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল জাপানের পক্ষ থেকে দেওয়া সংশোধিত প্রস্তাব। এতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় এমবার্কেশন ফি, আপফ্রন্ট পেমেন্ট এবং রেভিনিউ শেয়ারিং। এসব বিষয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা হবে আলোচনার প্রধান লক্ষ্য। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকার বারবার আলোচনায় বসছে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর ওপর জোর দেন।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে প্রস্তাবটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও আলোচনা হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগে এখনও কিছু বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
জাপানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার রিয়েকো নাকায়ামা।
উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। এটি চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিচালনা কাঠামো ও আর্থিক শর্ত নিয়ে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।