জাকির হোসেন
টাঙ্গাইলে নদী, খাল ও বিল দখলের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। সংগঠনটি মানববন্ধনের পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের গণঅনশন শুরু করেছে। কর্মসূচি চলছে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
আয়োজকদের অভিযোগ, জেলার প্রাকৃতিক জলাধার দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় নদী, চর, খাল, বিল ও গজারির বনে সমৃদ্ধ ছিল এই অঞ্চল। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। দখল ও দূষণে অধিকাংশ জলাশয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ধলেশ্বরী নদী-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা লৌহজং নদী প্রায় বিলুপ্তির পথে বলে অভিযোগ। নদীর বড় অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি। কোথাও কোথাও নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে।
একই অবস্থা পোংলি নদী-র ক্ষেত্রেও। স্থানীয়দের দাবি, নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরও জানান, বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক নির্মাণেও নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যানজট ও অপরিকল্পিত নগরায়ন। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, “নদী ও খাল রক্ষা না করলে টাঙ্গাইলের অস্তিত্বই হুমকিতে পড়বে। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
সংগঠনটি জানিয়েছে, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত গণঅনশন চলবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ও খাল দখল শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলে। পানি প্রবাহ কমে গেলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়। একই সঙ্গে বাড়ে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত জরিপ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।