বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া-তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা এবং সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন এবং একটি বিশেষ পত্র হস্তান্তর করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল শ্রমবাজার। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় দেশই কর্মীদের শোষণ রোধ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিশেষ করে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শুধু শ্রম নয়, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশই পারস্পরিক সুবিধার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা উঠে আসে। শিক্ষক বিনিময় এবং একাডেমিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।
উভয় পক্ষই বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে শ্রম, বাণিজ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।