সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অনেক সময় অভিযোগ তদন্তেই আটকে থাকে। তবে কুমিল্লার মুরাদনগরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ ওঠার পরই দ্রুত অভিযান চালানো হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণ। বাতিল করা হয়েছে দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টরের চুক্তি।
এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ। তার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির নাম “চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ”।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হচ্ছে মেটংঘর-শ্রীকাইল-রামচন্দ্রপুর সড়ক। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনির-ইসলাম জেভি কাজটি বাস্তবায়ন করছে। কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর। শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৯ মে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ হচ্ছিল। এটি বায়তুছ সালাত জামে মসজিদ সংলগ্ন আর্সি নদীর পাশে।
শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকৌশলগত মানও মানা হচ্ছে না।
অভিযোগ পৌঁছায় উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে। এরপর আর দেরি করেননি কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ইতোমধ্যে নিম্নমানের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। দায়ী সাব-কন্ট্রাক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণের অর্থে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বাকি কাজ যেন সঠিক মান বজায় রেখে হয়, সে জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তারা প্রকৌশলীর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি থাকলে সরকারি প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা একটি ভালো দৃষ্টান্ত। এতে জবাবদিহিতা বাড়ে।
তারা মনে করেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে উন্নয়ন প্রকল্পে আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে অপচয় কমবে।