শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশে যুক্ত হলো ‘আবৃত্তি’

বাংলাদেশে আবৃত্তি শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এই শিল্পের স্বীকৃতি নিয়ে ছিল অস্পষ্টতা ও বিতর্ক। অবশেষে সেই বিতর্কে আংশিক সমাধান এসেছে। নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘আবৃত্তি’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রণীত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯ অনুযায়ী এতদিন একাডেমিতে মোট ৬টি বিভাগ ছিল। এসব বিভাগের কোনোটিতেই ‘আবৃত্তি’ আলাদা শিল্পধারা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

যদিও গত এক দশকের শেষ দিকে একাডেমির কিছু দপ্তরে “সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ” নামে সাইনবোর্ড দেখা যায়। এতে অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো আইনি সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এই নাম ব্যবহারের কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সরকার যখন শিল্পকলা একাডেমির আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, তখন প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে বিভাগের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯টি করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে সেখানে আবৃত্তির জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়নি। বরং “সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ” ভেঙে “সংগীত বিভাগ” এবং “নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস বিভাগ” করার প্রস্তাব আসে—যেখানে ‘আবৃত্তি’ শব্দটিও বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয় বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। সংগঠনটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায় এবং সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘আবৃত্তি’র জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলে।

এর অংশ হিসেবে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগের প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা আবৃত্তি শিল্পের সামাজিক, শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তবে প্রথম দফায় সেই দাবি গৃহীত হয়নি। অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদনে জারি হলে ফেডারেশন আবারও আপত্তি জানায় এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান করে।

পরবর্তীতে নতুন সরকারের অধীনে অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার সময় বিষয়টি আবার সামনে আসে। আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে পুনরায় দাবি উপস্থাপন করা হয়।

অবশেষে সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘আবৃত্তি’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এখন বিভাগটির নাম হয়েছে “আবৃত্তি, নৃত্য ও অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস বিভাগ”

যদিও আবৃত্তির জন্য সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। কারণ, এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই শিল্পধারা আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমির কাঠামোর অংশ হলো।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন এক বিবৃতিতে আইন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেশের আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠনগুলোকেও অভিনন্দন জানিয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও আবৃত্তি শিল্পের মানোন্নয়ন, বিস্তৃত চর্চা এবং শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *