উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লায় গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের ৫ বছর পূর্তি

উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের গৌরবের ৫ম বর্ষপূর্তি। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর রাণীর বাজার সংলগ্ন সরদা পালের মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, গীতা পাঠ, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। শেষে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এডভোকেট সঞ্জয় সরকারের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য, ড. বিশ্বজিৎ দেব, সমাজসেবক ডা. অংকুর দত্ত এবং এডভোকেট দিলীপ কুমার চন্দ। স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রের শিক্ষিকা তিথি চক্রবর্তী।

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তাপস কুমার নাহা, দেবাশীষ চৌধুরী, স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, তাপস চন্দ্র সরকার, সুবীর নন্দী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, অচিন্ত্য দাশ টিটু, রিংকু ঘোষ, ডা. বনশ্রী সাহা, রূপক চন্দ্র রায়সহ আরও অনেকে।

বক্তব্যে অধ্যাপক শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য্য বলেন, গীতা শিক্ষা মানুষের নৈতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মানুষকে কর্মপ্রবণ করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, গীতার ‘নিষ্কাম কর্ম’ দর্শন মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎ হতে শেখায় এবং জীবনের সংকট মোকাবিলায় মানসিক শক্তি জোগায়।

তিনি আরও বলেন, গীতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবজীবনের সার্বজনীন শিক্ষা, যা সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের সভাপতি প্রদীপ নন্দী। এসময় সাধারণ সম্পাদক পিন্টু ঘোষসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে গীতা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *