আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় দেশ লিবিয়ায় বর্তমানে অবস্থান করছেন ২০ হাজার ৩৯২ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিলিফওয়েবের সর্বশেষ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি নিয়মিতভাবে ডিসপ্লেসমেন্ট ট্রেকিং মেট্রিক্স (ডিটিএম) নামে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অবস্থান ও সংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)।
রিলিফওয়েব জানায়, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই সময়কালে লিবিয়ার ১০০টি পৌরসভায় এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে বিশ্বের ৪৫টি দেশের মোট ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯০ জন অভিবাসী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশিরা মোট অভিবাসীর প্রায় দুই ভাগ।
তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুদান, দেশটির ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৮১১ জন নাগরিক লিবিয়াতে অবস্থান করছেন, যা মোট অভিবাসীর ৩৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নাইজার—প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৩২ জন নাগরিকের অবস্থান সেখানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মিশর, যার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪০ জন নাগরিক বর্তমানে লিবিয়াতে রয়েছেন।
যাত্রাপথ ও খরচ
রিলিফওয়েবের প্রতিবেদনে লিবিয়ায় পৌঁছানোর বিভিন্ন রুট ও যাত্রা ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে।
বাংলাদেশিদের ৪৬ শতাংশ সরাসরি বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক হয়ে লিবিয়া প্রবেশ করে। এই পথে তাদের গড়ে ৪,২৭৭ মার্কিন ডলার খরচ হয়।
অন্যদিকে ১৪ শতাংশ অভিবাসী প্রথমে আরব আমিরাত, পরে তুরস্ক হয়ে লিবিয়া প্রবেশ করেন—এই পথে খরচ প্রায় ৩,২২৮ ডলার।
তৃতীয় রুটে ১৩ শতাংশ বাংলাদেশি আরব আমিরাত থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন, যেখানে খরচ হয় ৩,৪৯৫ ডলার।
বাকি ২৭ শতাংশ অভিবাসী মিশর, জর্ডান, কাতার, ভারত ও সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশ হয়ে লিবিয়াতে পৌঁছান। এই রুটে গড়ে খরচ হয় ১,৬৬২ ডলার।
রিলিফওয়েবের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের অনেকেই কর্মসংস্থানের আশায় সেখানে গিয়েছেন, তবে অনেকে দালাল ও অবৈধ চক্রের মাধ্যমে বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র: রিলিফওয়েব, ডিটিএম রিপোর্ট (মে–জুলাই ২০২৫)