বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সামনে রেখে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি—এমন বার্তা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সমেন সাহার নেতৃত্বে ৫০ জন বিএনপিতে যোগ দেন। এসময় ফুল দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা কোনো বিভাজনে বিশ্বাসী নই। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গী করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বিএনপির মূল দর্শন।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালেই রেইনবো স্টেটের কথা বলেছেন—যেখানে সব ধর্ম, মত ও পেশার মানুষের সমান অধিকার থাকবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে বিভাজন ও ভুল বোঝাবুঝির রাজনীতি তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে দিয়েছে বর্তমান সরকার। কিন্তু মানুষ প্রতিহিংসা চায় না, ঐক্যের রাজনীতি চায়। বিএনপি সেই ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বাইরের কিছু দেশ এখনো মিডিয়া ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। জাতিগত অবস্থান ও ভূরাজনৈতিক কারণে দেশে অনেক বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা ১৯৭১ সালে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি, ২০২৪ আমাদের জন্য নতুন করে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। আমরা সবাই এই ভূখণ্ডে মিলেমিশে থাকতে চাই, সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের পাশে বিএনপি সবসময় ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”