প্রতি বছরের মতো এবারও কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করেছেন বাঙালি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ সামাজিক উৎসব ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা। এদিন ভাই-বোনের মধুর সম্পর্ক নবায়নের মাধ্যমে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় আনন্দঘন এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার কালিয়াজুরীতে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারের বাসায় উৎসবটি পালন করা হয়। তাঁর একমাত্র মেয়ে অর্পিতা সরকার ছোট ভাই অরন্য সরকার প্রিন্সের কপালে চন্দন ফোঁটা এঁকে দেন এবং বলেন—“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দেই আমার ভাইকে ফোঁটা।”
এরপর ভাই-বোন মিষ্টি বিনিময় ও উপহার আদান-প্রদান করেন।
অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার জানান, দীপাবলির পরদিনই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালিত হয়। হেমন্তের শিশির দিয়ে বোন তাঁর ভাইয়ের অমঙ্গল ও অশুভ শক্তিকে দূর করে সৌভাগ্য কামনা করেন। এরপর চন্দন তিলক এঁকে দেন এবং দুর্বা ও ধান দিয়ে আশীর্বাদ করেন ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায়।
তিনি আরও বলেন, পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী যমী (যমুনা) তাঁর ভাই যমকে এই তিথিতে গৃহে এনে পূজা করে আপ্যায়ন করেছিলেন। সেই থেকেই আজও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বাঙালি হিন্দু সমাজে বিপুল উৎসাহে পালিত হচ্ছে।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, খ্রিস্টীয় ১৩৩৬ সালে আচার্য সবানন্দ সুবীর পুঁথিতে উল্লেখ করেছেন—রাজা নন্দী বর্ধন তাঁর বোনের শোক নিবারণে বোনকে স্নেহ ও আপ্যায়ন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ভাইফোঁটা আজও ভাই-বোনের চিরন্তন সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বাঙালি সমাজে গভীর আবেগ ও ভালোবাসার উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কুমিল্লাতেও ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উৎসব পালিত হয়েছে আনন্দ, ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণ আবহে।