পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে এবং গাজাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রদানের ফর্মুলায় প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল সহাবস্থানের পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহুল আলোচিত ‘টু স্টেটস থিওরি’র এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে যেমন আশার আলো দেখা দিয়েছে, তেমনি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার দানা বাঁধছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ দফা সমঝোতা চুক্তি তৈরি হয়েছে। স্বাক্ষর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকর করার মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন। এতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, উভয় পক্ষের বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি, গাজায় ত্রাণ ও সরবরাহ প্রবেশ, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড শুরু এবং পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। একটি শান্তি কমিটি এর তদারকি করবে, যার মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতে। এ প্রক্রিয়ার নির্বাহী নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে।
তবে চুক্তি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন—
- এত দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা কতটা কার্যকর হবে?
- যুক্তরাষ্ট্র একাই কি গ্যারান্টার, নাকি আন্তর্জাতিক কোনো সমন্বিত শক্তি যুক্ত হবে?
- হামাস অস্ত্র সমর্পণ করলে ফিলিস্তিনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে দাঁড়াবে?
- আসন্ন নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার সঙ্গে কি এই শান্তি প্রক্রিয়া জড়িত?
- ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ কি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ প্রক্রিয়া সফল হলে এটি হবে ট্রাম্পের জন্য বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য। তবে যদি ব্যর্থ হয়, তবে তাঁকে ‘শান্তির ফেরিওয়ালা’ নয়, বরং এক যুদ্ধবাজ নেতার আসনে বসতে হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে আরও শঙ্কার কথা উঠে আসছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি চুক্তি ভঙ্গ করে নতুন করে হামলা চালান, তবে ন্যাটোর ভেতরেই মতবিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো ভিন্ন অবস্থানে যেতে পারে, এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দখলে সক্রিয় হতে পারেন, আবার পুতিন-মাখোঁ ঘনিষ্ঠতা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এ শান্তি উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘণ্টা বাজাতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তবে আশার দিকও আছে। আব্রাহাম একোর্ডের মতো বিতর্কিত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে যদি এই উদ্যোগে একটি স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন হয়, তবে তা হবে ইতিহাসে বড় অর্জন।
বিশ্বের নজর এখন টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমের দিকে। সংশয় থাকলেও অনেকে বিশ্বাস করেন, যদি এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় তবে তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।