দেড় বছর পর বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ জয়

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ শুরুতে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৯৬ রান করে। জবাব দিতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতে নাসুম আহমেদের তোপে পড়ে। এরপর তানভীর-রিশাদদের স্পিনে ১১৭ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের সাথে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ আফগানদের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছিল মেহেদী মিরাজের দল।

বৃহস্পতিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্পিনের বিপক্ষে দুই দলের ব্যাটারদের টিকে থাকা আর ধৈর্য্যের লড়াই হবে ভাবলেও বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান দুর্দান্ত শুরু করেন। তারা প্রথমে ১৩ ম্যাচ পর ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে ৫০ রানের জুটি গড়েন। প্রায় তিন বছর পর ওপেনিংয়ে শতরানের জুটি এনে দেন।

মিরপুরে দশ বছর পর দেশের হয়ে শতরানের ওপেনিং জুটি দেওয়ার পর ১৭৬ রানে থামেন সৌম্য ও সাইফ। এর মধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পাওয়া সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করে আউট হন। ছয়টি করে চার ও ছক্কা মারেন তিনি।

সাইফের সেঞ্চুরি মিসে তবু সান্ত্বনা ছিল। সৌম্য পুড়েছেন আক্ষেপে। তিনি ৮৬ বলে ৯১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। শুরুতে সময় নিয়ে শতকের পথে হাঁটার বার্তা দিয়েও ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়ায় মাথায় হাত দিয়ে আক্ষেপ করেন। তার ব্যাট থেকে সাতটি চারের সঙ্গে ছক্কা আসে চারটি। এছাড়া নাজমুল শান্ত তিন ছক্কায় ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। হৃদয় ধীরে ব্যাটিং করে ২৮ রান যোগ করেন। সোহান ৮ বলে ১৬ ও মিরাজ ১৭ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলেন।

জবাব দিতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলামের ঘূর্ণির কোনো কুল-কিনারা করতে পারেনি। স্পিন দিয়ে বোলিং শুরু করা বাংলাদেশের চার স্পিনারের ৩০.১ ওভারেই অলআউট হয়েছে সফরকারীরা। এর মধ্যে ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১১ রান দেওয়া নাসুম শুরুর তিন ধাক্কা দেন। একে একে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আলিক আথানজে (১৫), আকিম আগুয়েস্তে (০) এবং ব্রেন্ডন কিংকে।

এরপর শেই হোপ (৪) ফিরতেই যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশা শেষ হয়। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারানো দলটি আর ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও দিতে পারেনি। স্পিনার তানভীর ৮ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। সিরিজ সেরা হওয়া রিশাদ ৯ ওভারে ৫৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। সিরিজে ১২ উইকেট পেলেন তিনি। মিরাজ ৩৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস থেকে আকিল হোসেন ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *