জেমসকে বিয়ের পর রথির বেদনাময় জীবন

এক সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী ও আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী রথির জীবনের পথচলা যেন এক রূপকথার গল্প, যার শেষটা ছিল বেদনাময়। ব্যান্ড তারকা জেমসের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে, তারপর সংসার ভাঙন—সব মিলিয়ে রথির জীবন যেন নাটকের মতোই।

রথি জানান, ১৯৯১ সালের ১৭ নভেম্বর জেমসকে বিয়ে করেন তিনি। প্রথমে ইস্কাটনে কিছুদিন ছিলেন, পরে বড় ছেলে দানিশের জন্মের পর ১৯৯৫ সালে পরিবার নিয়ে চলে যান উত্তরায়। সেই সময়েই মুক্তি পায় আলোচিত সিনেমা অবুঝ দুটি মন—যেটির মাধ্যমে রথি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

তবে বিয়ের পরই শুরু হয় সমস্যার সূত্রপাত। রথি বলেন, “জেমস সরাসরি জানিয়ে দেয়, কোনোভাবেই সিনেমায় অভিনয় করা যাবে না। আমি ভাবলাম, সংসারে অশান্তি করে সিনেমায় থাকার কোনো মানে নেই।” সংসারে অশান্তি বাড়তে থাকায় রথি শুটিং ছেড়ে দেন, এমনকি ছবির সংবাদ সম্মেলনেও যেতে পারেননি।

চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে আসার পর রথির জীবন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু ২০০৩ সালে আসে আরেক ঝড়—দাম্পত্য জীবনের ইতি। “জেমস বেনজীরকে বিয়ে করে। আমাকে এক কাপড়ে উত্তরার বাসা থেকে বাবার বাড়িতে ফিরে যেতে হয়,” বলেন রথি।

সংসার ভাঙার পর দুই সন্তানকে নিয়েই লড়াই শুরু করেন তিনি। সন্তানদের প্রতি জেমসের দায়িত্ববোধ প্রসঙ্গে রথি অভিযোগ করেন, “বাবার ভূমিকা একদমই ছিল না। ঈদে বা জন্মদিনে কখনো শুভেচ্ছা জানায়নি। মেয়ে এসএসসি পাস করে বাবাকে মেসেজ দিয়েছিল, কিন্তু কোনো উত্তরই পায়নি।”

সবশেষে রথির কণ্ঠে আক্ষেপ, “ওই মানুষটাকে বিয়ে করাটাই ছিল আমার জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত। একটা সুন্দর সংসারের আশায় আমি চলচ্চিত্রজগৎ ছাড়তে দ্বিধা করিনি। অথচ সেই মানুষটাই আমাকে একা করে দিয়েছে। আমার পরিবার পাশে না থাকলে রাস্তায় নামতে হতো।”

এক সময়ের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী রথি এখনও সেই হারানো জীবনের স্মৃতি বয়ে বেড়ান—যেখানে ভালোবাসার শুরুটা যতটা রঙিন ছিল, পরিণতি ততটাই নির্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *