মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে খোলাবাজারের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৭৮ মেট্রিক টন চাউল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় এক নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ওএমএস ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিনোদপুর বাজারের ভাড়াকৃত একটি গুদাম থেকে উদ্ধারকৃত চাউল উপজেলা ও বিনোদপুর খাদ্য গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ওএমএস ডিলার হোসেনিয়া কান্তা ঋতু এ বছরের ২৮ জুলাই খাদ্য অধিদপ্তরের ডিলার হিসেবে নিযুক্ত হন। মাত্র দুই দিন পর ৩০ জুলাই তিনি মহম্মদপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ৭৭ দশমিক ৮৩৫ মেট্রিক টন চাউল উত্তোলন করেন। নিয়ম অনুযায়ী এসব চাউল ইউনিয়নভিত্তিক টিসিবি ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করে খোলাবাজারে কার্ডধারী ১৫ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীর মাঝে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কান্তা ওই চাল টিসিবি ডিলারদের না দিয়ে বিনোদপুর বাজারের এক চালকল মালিকের কাছে অধিক দামে বিক্রি করে দেন।
জুলাই মাসে কার্ডধারীরা টিসিবির চাল কিনতে না পারায় ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন ১৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের মুখে অভিযুক্ত ডিলার নিজের অপরাধ স্বীকার করলে বৃহস্পতিবার রাতে সমুদয় চাল উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সোবহান জানান, “এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য অফিস ও ওএমএস কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং দুর্বলতার কারণে এই অনিয়ম ঘটেছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আকতার বলেন, “অভিযুক্ত ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত চাল সরকারি গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে কালোবাজারে এত বড় অঙ্কের চাউল বিক্রির ঘটনায় শুধুমাত্র ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থেমে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে না।