ঢাকার মিরপুরের ঐতিহাসিক শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে আবারও ঘটল অঘটন। শতবর্ষী বটগাছ কেটে ফেলা হয়েছে রহস্যজনকভাবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক গাছ কাটা নয়—বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
মাজারে গিয়ে দেখা যায়, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার অনুপস্থিত। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি “ব্যস্ত আছি” বলে ফোন কেটে দেন। মাজারের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, “উপরের নির্দেশে” গাছ কাটা হয়েছে, তবে কার নির্দেশে তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান তারা।
এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাজারের দানের টাকা রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের পকেটে গেছে। ডিসির অধীনে থাকা এই প্রশাসনের পুরোনো রূপ এখনো বহাল রয়েছে। যে মাজার কমিটি থাকার কথা, তা নেই। ফলে জবাবদিহিহীন এই প্রশাসন অপরাধের পাহাড় গড়ে তুলেছে।
অভিযোগ আছে, শাহ আলী মাজারের ভেতরেই শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ীরা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, ৫ আগস্টের পর থেকে শাহ আলী থানার ওসি প্রায় মাসে মাসে বদলি হচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে—মাজার রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রশাসন কি মাদক কারবারিদেরই রক্ষক হয়ে গেছে?
ঢাকার ডিসি সরাসরি এই মাজারের দায়িত্বে। তাই শতবর্ষী বটগাছ কেটে ফেলা থেকে শুরু করে দানের টাকা আত্মসাৎ এবং মাদক ব্যবসার দাপট—সব কিছুর দায় নিতে হবে ডিসি ও মাজার প্রশাসনকে। জনগণ জানতে চায়, এই ভয়ংকর স্বেচ্ছাচারিতা কার নির্দেশে চলছে?
দেশজুড়ে একের পর এক মাজার ভাঙা, অগ্নিসংযোগ ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই বটগাছ কাটার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সরকার ও প্রশাসন যদি দ্রুত তদন্ত ও বিচার না করে, তবে এটিকে মাজার বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে ইতিহাস মনে রাখবে।
ভক্ত, গরীব ও আশ্রয়হীন মানুষের এই পবিত্র আশ্রয়স্থলকে মাফিয়াদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার দাবি উঠেছে চারদিক থেকে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কি অপরাধীদের রক্ষক হয়েই থাকবে, নাকি সত্যিকার অর্থে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে?