যুক্তির মাঠে নারী শ্রমিকের অধিকার
বিতর্কের মাধ্যমে তরুণ মনে জেগে উঠল সমতার স্বপ্ন

 

প্রাইম ইউনিভার্সিটির হলঘরে এক অন্যরকম উত্তেজনা। শুধু যুক্তি-তর্ক নয়, এখানে প্রতিটি বাক্যে মিশে আছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের চোখের জল, স্বপ্ন আর সংগ্রামের গল্প। “আন্তঃস্কুল-কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৫”-এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল রাউন্ড আজ এমনই এক মানবিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তরুণ মনগুলো শুধু জয়-পরাজয়ের বাইরে কিছু একটা খুঁজে পেয়েছে—সম্মান, স্বীকৃতি আর সমতার স্পর্শ।

সুনীতি প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার পেছনে আছে কর্মজীবী নারীদের এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি—গৃহকর্মী, কারখানার শ্রমিক, রিকশাচালক, মার্কেটের বিক্রেতা—যারা প্রতিদিন অদৃশ্য হয়েও শহরকে চালায়, তাদের অধিকার আর মর্যাদা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মনে একটা প্রশ্ন জাগানো। আর সেই প্রশ্ন আজ বিতর্কের মাঠে রূপ নিয়েছে যুক্তির ঝড়ে।

১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে চার দল পৌঁছেছিল সেমিফাইনালে। আর সেখান থেকে ফাইনালে উঠে এসেছে দুই দল—তামীরুল মিল্লাত মাদরাসা আর রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ফাইনাল রাউন্ডে যুক্তির যে লড়াই হয়েছে, তা শুধু বিজয়ী নির্বাচনের জন্য নয়—বরং এক সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। আর সেই লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর রানার-আপ হয়েছে তামীরুল মিল্লাত মাদরাসা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। তিনি বলেন, “যখন তরুণরা নারী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলে, তখন সেই কথা শুধু শব্দ নয়—সে এক প্রতিজ্ঞা। আজকের এই বিতর্ক আগামীর এক ন্যায়পরায়ণ সমাজের ভিত্তি গড়বে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনজিদা সুলতানা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, কর্মজীবী নারী; প্রদীপ কুমার রায়, জয়েন্ট ডিরেক্টর (প্রকল্প), ডিএসকে; আফরিন আক্তার, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, ডিএসকে; এবং মোঃ শফিকুর রহমান, চেয়ারপার্সন, ডিএফএইচ।

তাঁরা সবাই এক কথায় বলেন, “এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু প্রতিভা খুঁজে বেড়ায় না, সমাজের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে তরুণ মনে গেঁথে দেয়। আর সেই গাঁথুনিই আগামীকালের নেতৃত্বকে গড়বে।”

সুনীতি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কর্মজীবী নারী, অক্সফ্যাম জিবি-এর সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল এফেয়ার্স কানাডা-এর অর্থায়নে। প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু অধিকার নয়—জীবনের মর্যাদা, সামাজিক স্বীকৃতি আর নারী ক্ষমতায়নের এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা।

আজকের এই বিতর্কের মাঠে যে যুক্তিগুলো উঠে এসেছে, তা শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়—সেগুলো হয়ে উঠেছে সমাজের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আহ্বান। যে আহ্বান প্রতিটি নারী শ্রমিকের মাথা উঁচু করে হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করবে।

কারণ, যে সমাজ নারী শ্রমিককে সন্মানের চোখে দেখে, সে সমাজই সত্যিকার অর্থে উন্নত।

আর আজ সেই দেখার চোখ জেগে উঠেছে তরুণদের মধ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *