নুরুল ইসলাম বাবুল
রূপায়ণের নিচে দাঁড়ালে বোঝা যায়, এনসিপি আর কোনো ‘নতুন দল’ নয়; এটি একটি গণজোয়ারের নাম। প্রতি পাঁচ মিনিটে উঠে যাওয়া স্লোগান, মিষ্টির বাক্স, ফুলের তোড়া আর গাড়ির বহর—এসব শুধু প্রার্থী-প্রত্যাশীর হুঙ্কার নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বভূমি ফেরার আর্তনাদ। এক আসনে চার-পাঁচজন মনোনয়ন নিচ্ছেন, তবু হাতাহাতি নেই; কারণ প্রতিযোগিতা দলের ভেতরে, কিন্তু লক্ষ্য এক—পরিবর্তন।
বাংলাদেশে দুই প্রধান দলের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে দশকের পর দশক, মানুষ এখনো ভোট দেয় কম খারাপকে বেছে নিতে—ভালোকে নয়। এনসিপি সেই গণতান্ত্রিক ক্লান্তির প্রতিকার হিসেবে হাজির হয়েছে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে নয়, ‘প্রথম ভরসা’ হিসেবে। তাই ১০ মিনিট পরপর শাপলা-কলি মার্কার হুংকার শুধু প্রচার নয়, এটি সহ্যের সীমা অতিক্রম করা মানুষের আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম।
অতীতে অনেক দল এসেছে, ব্যানার-ফেস্টুনে রঙিন হয়েছে, কিন্তু ফাঁদে পড়ে হারিয়েছে। এনসিপির দায়িত্ব, জনগণকে যে ‘হোপ’ দেখিয়েছে তাকে ‘হাইপ’ বলে হারিয়ে যেতে না দেয়া। কারণ এই হোপ টিকে থাকলে রাজনৈতিক বাজারে দর কষাকষি শুধু ভোটের নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের।
তৃতীয় শক্তির উত্থান এখন আর শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি জনগণের জীবন-মরণ প্রশ্ন। দুই প্রধান দলের ব্যর্থতা, দুর্নীতি আর পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মানুষ এখন বলছে, ‘আর নয়, আমরা বিকল্প চাই’। এই বিকল্প শুধু নতুন একটি দল নয়, নতুন একটি চিন্তা, নতুন একটি আশা। এনসিপি সেই আশার বাহক হয়ে উঠেছে।
কিন্তু এই আশাকে টিকিয়ে রাখা এনসিপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে তৃতীয় শক্তির চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে কারণ তারা হয় ভেতরে ভেঙে পড়েছে, নয় বাইরের চাপে মাথা নত করেছে। এনসিপিকে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে, নেতৃত্বকে জনগণের দরবারে জবাবদিহি করতে হবে, এবং সবচেয়ে বড় কথা—তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের রোডম্যাপ জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে।
এই মুহূর্তে এনসিপির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের সমর্থন। মানুষ এখন তাদের দেখছে ‘শেষ আশ্রয়’ হিসেবে। এই আস্থা ভাঙলে ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই তারা যেন কারো ফাঁদে পড়ে ভুল স্ট্রাটেজি না নেয়, সেটি দেখার দায়িত্ব শুধু দলের নয়, সমর্থকদেরও। কারণ এই উত্থান শুধু এনসিপির নয়, এই উত্থান বাংলাদেশের।