বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই নারী ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন সাবেক তারকা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় নারী ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে। ফলে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসের বকেয়া বেতনও দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বিসিবি।
নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে মোট ৫১ জন নারী ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন জাতীয় দলের সদস্য, বাকিরা বিভিন্ন স্তরের খেলোয়াড়।
নতুন বেতন কাঠামো:
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ‘এ’ ক্যাটাগরির নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘বি’ ক্যাটাগরির বেতন ১ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ৯৫ হাজার টাকা হয়েছে।
আর ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা এখন থেকে ৮০ হাজার টাকা করে পাবেন, যা আগে ছিল ৬০ হাজার।
জাতীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন আগের মতোই ৩০ হাজার টাকা থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে কেউ জাতীয় দলে সুযোগ পেলে মাসে ৬০ হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। এছাড়া জাতীয় দলের অধিনায়ক অতিরিক্ত ৩০ হাজার এবং সহ-অধিনায়ক ২০ হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে পাবেন।
ক্যাটাগরি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের তালিকা:
‘এ’ ক্যাটাগরি: নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা।
‘বি’ ক্যাটাগরি: ফারজানা হক পিংকি, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান ও সোবহানা মোস্তারি।
‘সি’ ক্যাটাগরি: স্বর্ণা আক্তার।
‘ডি’ ক্যাটাগরি: সুমাইয়া আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও নিশিতা আক্তার নিশি।
এই নতুন কাঠামো ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নারী ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের পর এ বেতন বৃদ্ধি নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রণোদনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিসিবি কর্মকর্তারা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আব্দুর রাজ্জাক নারী ক্রিকেটের মানোন্নয়ন ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।