মাদারীপুরে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদারীপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) বহুতল ভবন কর্মী ও বিদ্যুৎ সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, ক্লাসরুম এবং আবাসিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছয় মাস ধরে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন।
মাদারীপুর আইএইচটিতে তিনটি চার বছর মেয়াদি কোর্স—ল্যাবরেটরি, রেডিওগ্রাফি ও ফার্মাসি—চলাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এখানে কমপক্ষে ৪৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী থাকা উচিত, তবে সরকারিভাবে একজন স্থায়ী শিক্ষকও নেই। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অস্থায়ীভাবে আসা স্টাফরা। ফলে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম খন্ডকালীনভাবে চলছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্তমানে মাত্র ১০ জন গেস্ট টিচারের মাধ্যমে তিনটি কোর্স চালানো হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো. মাহফুজুর রহমানের মূল কর্মস্থল ফরিদপুরে হওয়ায় তিনি নিয়মিত মাদারীপুরে থাকতে পারেন না। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৩২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ ছয় মাস ধরে বন্ধ। ওজোপাডিকো জানায়, ১২ লাখ ৪১ হাজার ৫৪ টাকা বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর ফলে প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষার্থী তৃষ্ণা বলেন, “বিদ্যুৎ নেই, শিক্ষক নেই। আমরা খুব কষ্টে পড়াশোনা করছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান দরকার।” অপর শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “অধ্যক্ষ নিয়মিত থাকেন না, শিক্ষকও নেই। স্থায়ী জনবল ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, “আমরা মন্ত্রণালয়ে লোকবল নিয়োগের চিঠি দিয়েছি। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংকট দূর হবে।”
শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “ভবন আছে, কিন্তু কর্মী নেই।” বর্তমান বাস্তবতায়, স্থায়ী জনবল ও বিদ্যুৎহীন এই কোটি টাকার ভবন সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যপূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।