বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (LAB) আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন “Reimagining Librarianship: Forging the Future with AI Technologies” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে আধুনিক গ্রন্থাগার ও তথ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর ভূমিকা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি—এই চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। দেশ-বিদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি একটি আন্তর্জাতিক জ্ঞানবিনিময় মঞ্চে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা বলছেন, এ ধরনের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তথ্যবিজ্ঞান খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সি আর আবরার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা ও তথ্যসেবা ব্যবস্থাকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে লাইব্রেরিয়ানদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি জ্ঞান বিকাশের নতুন ধাপ। লাইব্রেরিয়ানরা যদি এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত না হন, তাহলে তাদের ঐতিহ্যগত ভূমিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “AI লাইব্রেরিয়ানদের জায়গা নেবে না। তবে যারা AI ব্যবহার করতে পারবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে। তাই গ্রন্থাগার পেশায় AI দক্ষতা এখন জরুরি।”
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে AI-ভিত্তিক ক্যাটালগিং, তথ্য সংরক্ষণ ও অনুসন্ধান, গবেষণা সহায়তা, ডেটা সাক্ষরতা, ডিজিটাল অধিকার, নৈতিকতা, গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, সঠিক নীতিমালা ও নৈতিক মান বজায় রেখে AI ব্যবহার করা গেলে গ্রন্থাগার সেবা আরও দ্রুত, কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব হবে।
সম্মেলনের পাশাপাশি LAB-এর ১৫তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সমিতির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সমাধানের জন্য কাজ চলছে। ভবিষ্যতেও LAB-এর সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সার্বিকভাবে সফল আয়োজন, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং উচ্চমানের আলোচনা—সব মিলিয়ে এই সম্মেলন দেশের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার আন্দোলনে নতুন গতি যোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (LAB) দীর্ঘদিন ধরে দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে আসছে। নীতি প্রণয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সমিতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।