সরকারের রুটিন টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ডাটা ইন্টারঅপারেবিলিটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে একটি সমন্বিত ডাটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)–এর টিকাপ্রদান সিস্টেমকে ব্যবহার করা হবে।
আজ ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংস্কার ও সমন্বয় শাখার সচিব জাহেদা পারভীন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্ট্র্যাটেজিক কমিটি এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইপিআই সিস্টেম বাস্তবায়নের সময় যে অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ এসেছে তা ভবিষ্যতে জাতীয় ইন্টারঅপারেবল সিস্টেম গঠনের ভিত্তি হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে জন্মনিবন্ধন, সিভিল রেজিস্ট্রেশন, ইপিআই, শিক্ষা ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন দপ্তরে থাকলেও সেগুলো সংযুক্ত নয়। এর ফলে একই তথ্য বারবার জমা দিতে হয়, যা সময় ও সম্পদের অপচয় ঘটায়। সমন্বিত ডাটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম চালু হলে একবার সংগৃহীত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট সব সিস্টেমে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে জন্মের সময় সংগৃহীত তথ্য টিকাদান, শিক্ষা ভর্তি, পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সেবায় কাজে লাগবে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জাহেদা পারভীন বলেন, “জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী ইন্টারঅপারেবিলিটির জন্য সমন্বয়ের দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। জন্মনিবন্ধন নম্বর ও এনআইডি সিস্টেমের সমন্বয় নিশ্চিত করলে নাগরিকদের ইউনিক আইডি সৃষ্টির মাধ্যমে সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।”
সভায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইসিটি বিভাগের সচিব ও এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে সরকারি তথ্য আদান–প্রদানে সমন্বয় বাড়বে, নাগরিক সেবায় মানদণ্ড উন্নত হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ হবে।