দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ভরি প্রতি দাম ২ লাখ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার বন্ধ (শাটডাউন) হওয়ার পর প্রথমবারের মতো স্পট গোল্ড আউন্স প্রতি $৩৯০০ ছাড়িয়ে $৩৯১০.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামান্য প্রাইস কারেকশন সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক দিনে গোল্ডের এই ঊর্ধ্বগতি শুধুমাত্র বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা দ্বারা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবেও তৈরি হয়েছে। প্রধান কারণ হলো ইউএস ডলারের ওপর আস্থার কিছুটা ঘাটতি, যা ২০২২ সালের পরিস্থিতিতেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি হলো ইউএস ডলারের একক নিয়ন্ত্রণের প্রতি দেশগুলোর বিরূপ মনোভাব বৃদ্ধি। যদিও ইউএস ডলার প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে রয়ে গেছে, তবুও প্রতিটি দেশ তাদের কারেন্সি পোর্টফলিওতে অন্যান্য কারেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেছে ঝুঁকি কমাতে। একইসঙ্গে, গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেমে বিকল্প বা জরুরি বিকল্প ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে একক নীতির উপর নির্ভর করতে চায় না।
ইউরো ডলারকে কিছুটা বাজার দখল হারালেও এটি স্থায়ী হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। ইউরোপের অর্থনৈতিক নেতৃত্বের ঘাটতি, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া, সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের অর্থনীতি ইতিবাচক লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ফলে ইউরোর স্থায়িত্ব সংকটে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক কারেন্সি ও ট্রানজেকশন সেক্টরে বিকল্পের চাহিদা বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কারেন্সি যুদ্ধ চলমান থাকায় দেশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপদ ভ্যালু হোল্ডার হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। কার্যকরী, পলিটিক্যালি নিউট্রাল এবং নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম বা বিকল্প কারেন্সি না আসা পর্যন্ত, স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের মূল্য ধারাবাহিকভাবে উর্ধ্বমুখী থাকবে। যুদ্ধ, শীতল যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করবে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউএস ডলারের ওপর আস্থা কমে যাওয়া, ইউরোপের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, এবং বৈশ্বিক কারেন্সি বিকল্পের প্রয়োজন স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে স্বর্ণের দাম কমার পরিবর্তে আরও উর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে।