জাকির হোসেন, টাঙ্গাইল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার (২১শে জানুয়ারী) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলার তিন বর্ষীয়ান নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত তিনজন হলেন—
- লুৎফর রহমান খান আজাদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী
- এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
- এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি চেয়েছিল, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরাই নির্দিষ্ট আসনে দলীয় লাইন মেনে প্রচারণা চালাবে এবং জোট সমন্বয় বজায় রাখবে। দীর্ঘ আলোচনা ও অনুরোধের পরেও নাম প্রত্যাহার না করায় দলের শীর্ষ পর্যায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি সারাদেশে একই অভিযোগে ৫০-এর বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতেই শীর্ষ নেতৃত্ব এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী নেতাদের বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ানো কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছিল।
বহিষ্কৃত নেতারা দাবি করছেন, তাদের সিদ্ধান্ত জনসমর্থন ও স্থানীয় সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া। তারা মনে করেন, দলীয় সিদ্ধান্তে ভিন্ন মত থাকলেও নির্বাচনী প্রচারণায় এর বড় প্রভাব পড়বে না।
টাঙ্গাইলের এই পদক্ষেপ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিএনপি দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা জোরদার এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল দৃঢ় করতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত ভোটে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।