দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান প্রদেশের চিকং শহরে শুরু হয়েছে ৩২তম আন্তর্জাতিক ডাইনোসর লণ্ঠন উৎসব। “ডাইনোসরের শহর” ও “লণ্ঠনের নগরী” নামে পরিচিত এই শহর শতাব্দী প্রাচীন লণ্ঠন নির্মাণ ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ ডাইনোসর জীবাশ্ম ভাণ্ডারের জন্য সুপরিচিত।
শুক্রবার (২৩শে জানুয়ারী) জনসাধারণের জন্য উৎসব উন্মুক্ত করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে চোখধাঁধানো ও নিমগ্ন ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী। এবারের প্রতিপাদ্য “লণ্ঠনে আঁকা চীন”—যেখানে রঙিন লণ্ঠন নির্মাণ, টাই-ডাই ও কাগজ কাটার মতো চীনের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চীনা পৌরাণিক গল্প ও ইতিহাসের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ২০০টিরও বেশি অনন্য লণ্ঠন।
এবারের আয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ আকর্ষণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারঅ্যাকশন, স্মার্ট টাচ কন্ট্রোল এবং আলো-সংবেদনশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা স্পর্শের মাধ্যমে আলো ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল গায়ক এবং যান্ত্রিক ডাইনোসরের সঙ্গেও ইন্টারঅ্যাক্ট করার সুযোগ রয়েছে।
উৎসবের উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ১৮০ মিটার দীর্ঘ “মুলানের কিংবদন্তি”, যা আসন্ন চীনা ঘোড়া বর্ষ উপলক্ষে নির্মিত। এতে কিংবদন্তি নারী যোদ্ধা হুয়া মুলানের সাহসিকতা ও দেশপ্রেম তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসে হুয়া মুলান দক্ষিণ ও উত্তর রাজবংশ যুগে বাবার বদলে পুরুষের ছদ্মবেশে সেনায় যোগ দিয়ে ১২ বছর যুদ্ধ করেছিলেন বলে পাওয়া যায়।
আরেকটি আকর্ষণ হলো ৩৫ মিটার উঁচু “চাইনিজ নটের ফটক”—চীনের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি অতীত ও বর্তমানের প্রতীকী সংযোগ দেখায়।
ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্মিলনে চিকং শহরের এই উৎসব আবারও বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে।