সুইজাল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ট্রাম্প বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে—এটা মনে রাখবে, মার্ক।” এই মন্তব্যের জবাবে কার্নি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে নেই।”
কার্নির এই মন্তব্য তাঁর প্রস্তুতকৃত ভাষণের লিখিত কপিতে ছিল না; এটি ছিল তাৎক্ষনিকভাবে দেওয়া একটি দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কানাডা স্বাধীন ভাবে দাঁড়িয়েছে এবং নিজ স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।
ডাভোসের ক্যাবিনেট পরিকল্পনা ফোরামের উদ্বোধনী ভাষণে কার্নি বলেন, “আমরা যখন সদয় হই, সদয়তা বাড়ে। আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ হই, ঐক্য বাড়ে। আমরা যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী—তখনই কানাডা এগিয়ে যায়।” তিনি ভাষণ শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি।
এরপর কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান কোনোভাবেই স্বল্পদৃষ্টি নয়। তিনি বলেন, “অনেকে যা মনে মনে ভাবছিলেন, প্রধানমন্ত্রী সেটাই সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন।”
ডাভোসে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বক্তৃতায় কার্নি বিশ্বব্যবস্থায় বর্তমান ভাঙনের সমস্যা, অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহারের ঝুঁকি এবং ‘মধ্যম শক্তিগুলোর’ ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাস স্বৈরতন্ত্রের দিকে যাবে—এটা অনিবার্য নয়; উল্টো অগ্রগতি ও ন্যায়ের দিকেও গড়াতে পারে।
কার্নি বলেন, কানাডা সব সমস্যার সমাধান করতে না পারলেও বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। তিনি বহুত্ববাদ, অধিকার সুরক্ষা ও সমান স্বাধীনতা কানাডার প্রকৃত শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তিনি শিশু যত্ন, দন্তচিকিৎসা ও ওষুধসেবার মতো মৌলিক সেবার সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন “একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ কানাডা পরিবার, শ্রমিক ও সবচেয়ে দুর্বলদের পাশে দাঁড়ায়” ।
ডাভোসে দুইদিনব্যাপী এই ক্যাবিনেট পরিকল্পনা ফোরাম কুইবেক সিটির ঐতিহাসিক সিটাডেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুর্গ ব্রিটিশ আমলের সময় নির্মিত হয়েছিল এবং এক বারই মার্কিন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তৈরি হয়েছিল।
ভাষণের শেষভাগে কানাডার ইতিহাসের উল্লেখ করে কার্নি বলেন, “আমরা আমেরিকানরা সেন্ট লুইস ছাড়ার আগেই এই মহাদেশের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছি। পাঁচ বছরে ট্রান্সকন্টিনেন্টাল রেলওয়ে তৈরি করেছি, চার বছরে সেন্ট লরেন্স সিওয়ে বাস্তবায়ন করেছি—এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলেছি।”