মাগুরা শহরের ছোটফালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন ঘিরে স্থাপন করা একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়।
জনপ্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে ওই দিন বিকেলে কেন্দ্রটিতে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল—উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি লাঠি হাতে এসে একটি ক্যামেরায় আঘাত করে। ফুটেজে তার চেহারা স্পষ্ট না হলেও আঘাত ও ভাঙচুরের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
রাতেই এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন যুবককে ভাঙা ক্যামেরার আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় যে কেউ এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।
পরদিন সকালে বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড ভাঙা ক্যামেরাটি দেখে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কেন্দ্রের প্রধান প্রবেশপথ দৃশ্যমান রাখতে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। রাতেই ভাঙা হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।”
মাগুরা সদর থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি মাগুরা–১ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে চলমান আলোচনার সাথে যুক্ত হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের মতো মাগুরার ৩০১টি কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ ভাঙচুরের মুখে পড়লে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে অনেকে বলছেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ তৈরি না করে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
পুলিশ বলছে, ভাঙচুরটি ব্যক্তিগত ক্ষোভ নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে—এ সম্পর্কে তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।