টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু

জাকির হোসেন

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যা জেলা শহরের বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র, বর্তমানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর-বাইরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্যযুক্ত পানি, ময়লা-আবর্জনা এবং দুর্গন্ধ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সিঁড়ি, আঙিনা, ওয়ার্ডের আশপাশে খোলা অবস্থায় আবর্জনা পড়ে আছে। কখনও কখনও মেডিকেল বর্জ্যও ঠিকভাবে অপসারণ করা হয়নি, যার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, “হাসপাতালে আসি রোগ সেরে ওঠার জন্য, কিন্তু এই নোংরা পরিবেশে নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।”

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নবাগত টাঙ্গাইল পৌর প্রশাসক (ডিডিএলজি) মাহফুজুল আলম মাসুম ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তারা টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থা যাচাই করেন।

ডিডিএলজি মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, “পৌরসভা বাইরের ময়লা পরিষ্কার করবে। তবে ভেতরের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর। মেডিকেল বর্জ্য আলাদা করে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।”

হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, “আমরা চাই হাসপাতাল বর্জ্যমুক্ত হোক। রোগীরা সুন্দরভাবে চিকিৎসা নিতে পারুক। এটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধীরে ধীরে করা সম্ভব।”

পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ আনিসুর রহমান, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য, যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী সাজু, মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি’ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), বিডি ক্লিনের সদস্যগণ, পৌরসভার স্টাফগণ ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন।

সচেতন মহল আশা করছেন, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দূরীকরণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। তারা মনে করেন, একটি হাসপাতাল কখনোই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতীক হতে পারে না; বরং পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ চিকিৎসার উদাহরণ হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *