যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফরকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, এই সফরের ফলে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গত আট বছরের মধ্যে প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার বুধবার চার দিনের সরকারি সফরে বেইজিং পৌঁছান। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ ‘দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয় দুই দেশ।
চীনে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ক্রিস টরেন্স বলেন, এই সফর থেকে পাওয়া ইতিবাচক বার্তা চীনে কর্মরত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। তার মতে, দীর্ঘদিন পর উচ্চপর্যায়ের এই রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবসার পরিবেশে নতুন গতি আনতে পারে।
টরেন্স জানান, আগের রক্ষণশীল সরকারের সময়ে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়েছিল। এর ফলে ব্যবসায়িক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অনেক ব্রিটিশ কোম্পানির জন্য চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তিনি মনে করেন, কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের বাস্তবমুখী অবস্থান সেই অনিশ্চয়তা কাটাতে সহায়ক হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে একদিকে চীনে পরিচালিত ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন বাড়বে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী চীনা কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। স্টারমারের এই সফর সেই পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।